August 2, 2026, 12:02 pm
মানবাধিকারের সাইনবোর্ডে প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি: সামনে এলো ‘পঞ্চম শ্রেণি পাস’ সামস সিন্ডিকেটের জালিয়াতি
মানবাধিকার রক্ষার ছদ্মবেশে অপপ্রচার, ভুয়া সংবাদ সম্মেলন ও ব্লাকমেইলিংকে আয়ের হাতিয়ার বানিয়েছিল একটি অপরাধী চক্র, যার নেপথ্যে রয়েছেন সুফি সাগর সামস। ‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ নামের এক ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে সমাজের বিত্তবান, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের ট্র্যাপে ফেলে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার কাজ। বাস্তবে এই তথাকথিত মানবাধিকার নেতার শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র পঞ্চম শ্রেণি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের হয়রানি, জেল-জুলুমের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মানবপাচার ও অবৈধ অর্থ পাচারেও সক্রিয় ছিল চক্রটি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা যায়, নামের আগে ভুয়া ‘ডক্টর’ খেতাব বসিয়ে সমাজে নিজের অবস্থান জাহির করতেন সামস। যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের জাল সনদে নিজেকে ‘ডক্টরেট’ দাবি করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনবিহীন ‘বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি’ (বিএইচপি) নামের ভুয়া রাজনৈতিক দলের মহাসচিব পরিচয় দিতেন তিনি। মূলত ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অসাধু উপায়ে তথ্য জোগাড়, মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ভুয়া নালিশ পাঠানো এবং পরবর্তীতে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে কোটি টাকা চাঁদা আদায় করাই ছিল তাদের কাজের ধরন।
এর আগে ময়মনসিংহ-১১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়াহেদের কাছে চাঁদা দাবি ও পরবর্তীতে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হন সুফি সামস। তখন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই নিজের জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মার্কিন দূতাবাসের মামলাসহ বেশ কিছু ফৌজদারি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু দিন আত্মগোপনে থাকলেও ২০২৬ সালে এসে আবারও পুরোনো ব্ল্যাকমেইলিং চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মচারীর সহায়তায় দুদক ও প্রশাসনিক দফতরে বানোয়াট অভিযোগ জমা দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জিম্মি করা এবং অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করা হয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সহযোগী হয়ে ফায়দা লোটার পর বর্তমানে একইভাবে নতুন কৌশলে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী মহল।
অভিযোগ রয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলা এবং বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পেছনে অন্যতম অর্থ জোগানদাতা ছিলেন এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড কাজী মনসুরুল হক। ভুক্তভোগীদের দাবি, মানবাধিকার ও রাজনীতির ভুয়া পদবি ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা সুফি সাগর সামস এবং কাজী মনসুরুল হকসহ পুরো চক্রটিকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
Leave a Reply