May 30, 2026, 9:24 am

শিরোনাম :
থাইরয়েডে টিউমার মানেই ক্যান্সার নয়, দরকার সচেতনতা

থাইরয়েডে টিউমার মানেই ক্যান্সার নয়, দরকার সচেতনতা

প্রতি বছর ২৫ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব থাইরয়েড সচেতনতা দিবস’ (World Thyroid Day)। থাইরয়েড গ্রন্থির বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ দিবসটি পালন করা হয়।

বিশেষ করে থাইরয়েড নডিউল বা গলগণ্ড জাতীয় টিউমার নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে ভীতি ও ভুল ধারণা অনেক বেশি। অথচ সময়মতো পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগটি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।

গলায় ছোট বা বড় কোনো ফুলা বা চাকা দেখা দিলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে ভাবেন—এটি হয়তো ক্যান্সার। অথচ বাস্তবতা হলো, থাইরয়েডের অধিকাংশ টিউমারই ক্যান্সার নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, থাইরয়েড টিউমারের প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশই ‘বিনাইন’ বা সাধারণ ভালো ধরনের টিউমার। মাত্র ৫-১০ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি ক্যান্সার হতে পারে। তাই গলায় কোনো ফুলা দেখলেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে কিছু লক্ষণ থাকলে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কোন লক্ষণগুলো ক্যান্সারের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়? 

১. টিউমারের দ্রুত আকার বৃদ্ধি পাওয়া:
গলার ফুলা বা চাকাটি যদি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত বড় হতে থাকে, তাহলে এটি সতর্কতার বিষয় হতে পারে।

২. টিউমার শক্ত হয়ে যাওয়া :
হাত দিয়ে ধরলে যদি টিউমারটি খুব শক্ত অনুভূত হয় বা আশপাশের চামড়া ও মাংসপেশির সঙ্গে আটকে আছে বলে মনে হয়, তাহলে তা উদ্বেগজনক হতে পারে।

৩. কণ্ঠস্বর পরিবর্তন:
ঠান্ডা বা অন্য কোনো কারণ ছাড়াই যদি হঠাৎ ফোলার সাথে গলার স্বর বসে যায়, কর্কশ হয়ে যায় অথবা ফিসফিসে শোনায় এবং তা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

৪. খাবার গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট:
বড় টিউমার খাদ্যনালী বা শ্বাসনালীর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে গিলতে অসুবিধা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

৫. গলার পাশে নতুন চাকা বা লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া।
থাইরয়েডের পাশাপাশি গলার পাশে নতুন কোনো গোটা বা গ্ল্যান্ড ফুলে উঠলে সেটিও ঝুঁকির লক্ষণ হতে পারে।

কারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে?

ক) ১৬ বছরের কম বয়সী ও ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি; বিশেষ করে পুরুষ রোগী।

খ) অতীতে ঘাড় বা গলার অংশে রেডিয়েশন নেওয়ার ইতিহাস থাকলে।

কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?

শুধু বাহ্যিক লক্ষণ দেখে থাইরয়েড টিউমার ভালো না ক্যান্সার—তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এজন্য কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

১)Ultrasonography (USG) of Neck:
টিউমারের গঠন, আকার ও বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য করা হয়।

২) FNAC (Fine Needle Aspiration Cytology):
সুইয়ের মাধ্যমে সামান্য কোষ বা রস নিয়ে পরীক্ষা করে টিউমারটি ক্যান্সার কি না তা নির্ণয় করা যায়।

৩) Thyroid Function Test (TSH, FT4, FT3):
থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য করা হয়।

আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

গলায় কোনো ফুলা বা চাকা দেখা দিলে অবহেলা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি অযথা ভয় পাওয়ারও কারণ নেই। দ্রুত একজন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ (ENT Specialist) বা হেড-নেক  সার্জনের পরামর্শ নিলে অধিকাংশ সমস্যাই সহজে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে থাইরয়েড ক্যান্সারের সফল চিকিৎসার হার অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক (ইএনটি), সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2026 Desh-bangla.Com
Design & Developed BY PJM1337