May 30, 2026, 11:32 am

শিরোনাম :
ড্যাফোডিল-সুইসকন্ট্যাক্টের উদ্যোগে পিজিডি’র ১ম ব্যাচের যাত্রা শুরু

ড্যাফোডিল-সুইসকন্ট্যাক্টের উদ্যোগে পিজিডি’র ১ম ব্যাচের যাত্রা শুরু

বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স উপযোগী করে গড়ে তুলতে নতুন এক মাইলফলক তৈরি করল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) এবং সুইসকন্ট্যাক্ট।

শুক্রবার (২২ মে) দেশের প্রথম ইউজিসি-অনুমোদিত ‘পোস্ট-গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজিডি) ইন সাস্টেইনেবল বিজনেস অ্যান্ড ইএসজি ম্যানেজমেন্ট (এসবিইএম)’ প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের আনুষ্ঠানিক ওরিয়েন্টেশন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সুইসকন্ট্যাক্টের ‘প্রগ্রেস’ প্রজেক্টের সহযোগিতায় এবং সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় চালু হওয়া এই বিশেষায়িত প্রোগ্রামটি দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতসহ বিভিন্ন শিল্পখাতে বৈশ্বিক ইএসজি (এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স) কমপ্লায়েন্স, সাস্টেইনেবিলিটি এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসা পরিচালনায় দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (এইচআরডিআই)-এর ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক তাহসিনা ইয়াসমিন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, কর্মজীবী পেশাজীবীদের সুবিধা বিবেচনায় রেখেই এই কোর্সের অ্যাকাডেমিক কাঠামো সাজানো হয়েছে, যাতে তারা নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সহজেই কোর্সটি সম্পন্ন করতে পারেন। এরপর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাস্টেইনেবিলিটি অফিসার ইব্রাহিম হোসেন পিজিডি প্রোগ্রামের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য এবং অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের ‘প্রগ্রেস’ প্রজেক্টের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাইয়েদুল আরেফিন বলেন, ‘এই কারিকুলামটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি সরাসরি শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদা পূরণ করতে পারে এবং বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি করে।’

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রথম সেমিস্টারের ফ্যাকাল্টি ও ট্রেইনারদের পরিচিতি পর্ব। এই প্রোগ্রামে দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট সাস্টেইনেবিলিটি বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন উর্মি গ্রুপের গ্রুপ সাস্টেইনেবিলিটি লিড এ বি এম ফখরুল আলম, টিম গ্রুপের হেড অব সাস্টেইনেবিলিটি মো. মনোয়ার হোসেন, সাসনেক্স লিমিটেডের ডিরেক্টর-এথিক্যাল সোর্সিং অ্যান্ড সিএসআর আলেয়া আক্তার এবং এসজিএস বাংলাদেশের লিড-ইএসজি অ্যান্ড সাস্টেইনেবিলিটি সার্ভিসেস মুশফিকুর রাব্বী তূর্য।

বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট অ্যাসেসমেন্ট, এনার্জি অডিটিং, সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স এবং সিবিএএম ও সিএসআরডি’র মতো বৈশ্বিক রিপোর্টিং কাঠামো বিষয়ে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেবেন।

সমাপনী বক্তব্যে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিং সেল ও সাস্টেইনেবিলিটি উইং-এর ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন কমপ্লায়েন্স চাহিদা পূরণে এই পিজিডি প্রোগ্রাম দেশের শিল্পখাত, বিশেষ করে আরএমজি সেক্টরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং সুইসকন্ট্যাক্টের এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে টেকসই উন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করবে।’

ওরিয়েন্টেশন শেষে অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নেটওয়ার্কিং সেশন এবং গ্রুপ ফটোশুট অনুষ্ঠিত হয়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ) ও এইচআরডিআই

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম, যা বৈশ্বিক টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‍্যাংকিং এবং কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে স্বনামধন্য অবস্থান অর্জন করেছে। এর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (এইচআরডিআই) পেশাদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্পোরেট ট্রেনিং এবং আপস্কিলিং নিয়ে কাজ করে থাকে।

সুইসকন্ট্যাক্ট এবং প্রগ্রেস প্রজেক্ট

সুইসকন্ট্যাক্ট আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন অলাভজনক ফাউন্ডেশন। ১৯৫৯ সালে সুইজারল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা ও শিল্পোদ্যোক্তাদের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে মানুষের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে।

সুইসকন্ট্যাক্ট তার ‘প্রগ্রেস’ প্রজেক্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতকে একটি পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্ষেত্র হিসেবে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই প্রজেক্টটি পোশাক খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ইএসজি (এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স) কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মসংস্থান (যার মধ্যে ৬০% নারী কর্মী) নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2026 Desh-bangla.Com
Design & Developed BY PJM1337