May 30, 2026, 11:31 am

শিরোনাম :
আবাসন সুবিধার বাইরে বেরোবির ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী

আবাসন সুবিধার বাইরে বেরোবির ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ২০০৮ সালের ১২ অক্টোব প্রতিষ্ঠার পর ১৮ বছরে পদার্পণ করলেও তীব্র আবাসন সংকট পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ক্যাম্পাসের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন আবাসিক হলের সুবিধা। এতে আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালটিতে ৬টি অনুষদের অধীনে ২২টি বিভাগে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন । অপরদিকে ছেলেদের ও মেয়েদের হলে সবমিলিয়ে সিট রয়েছে মাত্র ৮২৪টি। সে হিসেবে আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০ শতাংশ।

বর্তমানে ছেলেদের জন্য ২টি, বিজয় ২৪ হল ও শহীদ মুখতার ইলাহী হল এবং মেয়েদের জন্য একমাত্র শহীদ ফেলানী হল চালু রয়েছে। এছাড়াও দুর্নীতির অভিযোগে নির্মাণকাজ থমকে থাকা ১০ তলা বিশিষ্ট ছাত্রীদের হলসহ আবাসিক হল রয়েছে মাত্র চারটি। এর মধ্যে বিজয়-২৪ হলে আসন সংখ্যা ২৪০টি, শহীদ মুখতার ইলাহী হলে আসন সংখ্যা ২৪০টি ও মেয়েদের জন্য শহীদ ফেলানী হলে আসন সংখ্যা রয়েছে ৩৪৪টি।

তীব্র এই আবাসন সংকটের কারণে বাকি ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে বিভিন্ন মেস ও ভাড়া বাসায়। এ সুযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে গড়ে উঠেছে মেস বাণিজ্য। বিকল্প না থাকায় মেস মালিকদের স্বেচ্ছাচারী আচরণ সহ্য করেই থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন নারী শিক্ষার্থী ও মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীরা।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরাতুল জান্নাত ঊষা বলেন, আমাদের নিরাপত্তার যে জায়গাটা দরকার হয় সেটি আমরা পাই না। কারণ প্রশাসন যে নিরাপত্তা দিত তা মেসে পাওয়া যায় না । মেস এরিয়াগুলোতে বহিরাগত লোকদের থেকে নিরাপত্তা খুবই সীমিত। আবার হলের তুলনায় মেসের খরচ‌ও অনেক বেশি যা অনেকের জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে যায়।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিমুল হাসান বলেন, শুধু নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেই উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত হয় না। বরং বর্তমানে যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে এগুলোর শিক্ষা, গবেষণা, আবাসন, চিকিৎসা ও অবকাঠামোগত মান উন্নয়নের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত তীব্র আবাসন সংকট চলছে কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ‌ই চোখে পড়ছে না। যা আমাদের মত শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

এ বিষয়ে বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের বিষয়টি আমি অবগত। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার প্লান জমা দিয়েছি। মাস্টার প্লান এর কাজ শেষ হলে আবাসন সমস্যা অনেকটা নিরসন হবে। সেখানে ছেলেদের এবং মেয়েদের জন্য আরও বেশ কিছু হল বরাদ্দ আছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2026 Desh-bangla.Com
Design & Developed BY PJM1337